অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা আসে – “পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ওযুর পর আবার প্রতিবেলা কি ফুল স্কিনকেয়ার র্যুটীন করতে হবে? মুখ ধোয়ার সময় তো সব ধুয়ে চলে যাচ্ছে!”
প্রথম কথা হলো, আপনাকে পাঁচ ওয়াক্ত ওযুর পর স্কিনকেয়ারের সব স্টেপ রিপিট করতে হবে না! আপনার সেরাম/ এসেন্স/ টোনার কোনো সাধারণ ক্রিম না যে শুধু স্কিনের উপরে একটা লেয়ার তৈরি করে বসে থাকবে। আপনি যখন সঠিক নিয়মে এগুলো এপ্লাই করেন, এর এক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো স্কিনের পোরস দিয়ে একদম ভেতরে পেনিট্রেট করে যায়। তাই কয়েক ঘণ্টা পর ওযু করলে স্কিনের ভেতরে ঢুকে যাওয়া একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট (যেমন- ভিটামিন সি, নায়াসিনামাইড বা রেটিনল) ধুয়ে বের হয়ে যায় না। ধুয়ে যায় শুধু স্কিনের উপরের লেয়ারে থাকা ময়েশ্চারাইজার বা সানস্ক্রিন।
এবার একটু জেনে নেই কেন একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট যুক্ত প্রোডাক্টগুলো বার বার রিএপ্লাই এর প্রয়োজন নেই, এবং ব্যবহারের সময় কীভাবে ব্যবহার করা উচিত।
বেশিরভাগ সেরাম/ টোনার/ এসেন্স এ জাতীয় প্রোডাক্টগুলো ৩০ সেকেন্ড থেকে ৩ মিনিটের মাঝে স্কিনে absorb হয়ে যায় এবং স্কিনের গভীরে ঢুকে তাদের কাজও করতে শুরু করে। তবে absorb হওয়া মানেই কিন্তু কাজ শেষ না। এর মানে হলো পরের স্টেপে যাওয়ার আগে এক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট গুলো যেন স্কিনে ঠিকমতো লক হয়ে যায় সেটা এনশিওর করা।
তাহলে ওযুর পর স্কিনকেয়ার রুটিন কী হবে?
সেরাম শুধু আপনার মর্নিং এবং নাইট স্কিনকেয়ার রুটিনেই থাকবে (দিনে ১ বা ২ বার)। ওযুর সময় যেহেতু শুধু পানি দিয়ে মুখ ধোয়া হচ্ছে, তাই ওযুর পর মুখ মুছে স্কিন যখন হালকা ড্যাম্প থাকবে, তখন শুধু একটু ময়েশ্চারাইজার বা দিনের বেলা হলে সানস্ক্রিন রিএপ্লাই করে নিবেন। স্কিন ড্রাই আউট হবে না।
সেরাম এবজর্ব হয়েছে কিনা তা কী করে বোঝা যায়? কীভাবে একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট গুলো স্কিনে লক হবে?
একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট গুলো স্কিনে লক করতে এগুলো এবজর্ব হয়ে যাবার পর ব্যবহার করবেন ময়েশ্চারাইজার বা ফেস অয়েল। এই এবজরপশন বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের স্কিন টাচ করে দেখা।
- স্কিন ধরলে যখন হালকা স্টিকি বা bouncy লাগবে, কিন্তু একদম পানি পানি বা ভেজা মনে হবে না। স্কিন যদি ভেজা বা স্লিপারি লাগে এর মানে হচ্ছে স্কিনকেয়ারের পরবর্তী স্টেপ (ময়েশ্চারাইজার বা অয়েল) ব্যবহারের এখনো সময় হয় নি। এই অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার দিলে আপনার সেরাম dilute বা পাতলা হয়ে যেতে পারে এবং প্রোডাক্ট pilling হতে পারে (অর্থাৎ স্কিনের উপর ক্রিমগুলো ছোট ছোট সাদা দলার মত উঠে আসবে)।
- স্কিন যদি একদম অতিরিক্ত শুষ্ক লাগে, তার মানে আপনি বেশি সময় নিয়ে ফেলেছেন। মনে রাখবেন, বেশিরভাগ ময়েশ্চারাইজার হালকা ড্যাম্প স্কিনে এপ্লাই করলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
সব সেরাম কি একই সময়ে এবজর্ব হয়?
না! কয়েকটা ফ্যাক্টরের উপর এই টাইমিং নির্ভর করে-
- ওয়াটার-বেইজড সেরামগুলো (যেমন ভিটামিন সি বা হাইলুরোনিক এসিড) কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই স্কিনে মিশে যায়। কিন্তু অয়েল-বেইজড সেরামগুলো ২-৩ মিনিট পর্যন্ত সময় নিতে পারে।
- ভারী মলিকিউলার ওয়েট এর একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট স্কিনে ঢুকতে বেশি সময় নেয়। হালকা মলিকিউলার ওয়েট এর একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট স্কিনে অল্প সময়ের মাঝে এবজর্ব হয়ে যায়। যেমন হাইলুরোনিক এসিড স্কিনের উপরের লেয়ারে কাজ করে, তাই জলদি সেট হয়ে যায়। অন্যদিকে রেটিনল বা পেপটাইডের মতো ইনগ্রেডিয়েন্ট স্কিনের গভীরে পেনিট্রেট করতে একটু বেশি সময় নেয়।
- টোনার বা ফেসওয়াশের পর স্কিন যখন হালকা ড্যাম্প থাকে, তখন সেরাম এপ্লাই করলে পেনিট্রেশন স্পিড অনেক বেড়ে যায় এবং সেরাম আরো বেটার কাজ করে।
ম্যাক্সিমাম বেনিফিট পেতে কিছু এপ্লিকেশনের টিপস:
- প্যাট করুন, ঘষবেন না। ফেইসে ক্রিম বা লোশনের মতো না লাগিয়ে, হাতের তালু দিয়ে চেপে চেপে সেরাম স্কিনে বসিয়ে দিন। এতে এক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট গুলো শুধু স্কিনের উপরেই বসে থাকবে না, বরং পোরসের ভেতরে পুশ হতে হেল্প হবে।
- পাতলা থেকে ঘন- এই সিরিয়ালে এপ্লাই করবেন। স্কিনকেয়ার লেয়ারিং এর গোল্ডেন রুল এটা। সবসময় আপনার সবচেয়ে পাতলা বা ওয়াটারি সেরাম আগে ব্যবহার করবেন। ঘন বা অয়েল-বেইজড সেরাম আগে দিয়ে ফেললে, পরের ওয়াটার-বেইজড প্রোডাক্ট স্কিন পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারবে না।
- যদি হাই-স্ট্রেংথ এক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট (যেমন L-Ascorbic Acid/Vitamin C বা Retinoids) ব্যবহার করেন, তবে কমপক্ষে এক মিনিট ওয়েট করবেন। এতে স্কিনের pH ব্যালেন্স হুট করে আপনার ময়েশ্চারাইজারের কারণে ব্যাহত হয় না।
আশা করি কনফিউশনটা ক্লিয়ার হয়েছে!
