চুলের পোরসিটি কীভাবে বুঝব?

চুলের পোরসিটি (Porosity) ওয়ার্ডটা যাঁরা যাঁরা শুনেছেন, বাই নাউ গ্লাসের পানিতে চুল ডুবিয়ে পোরসিটি ডিটারমাইন করার ভাইরাল ভিডিও দুই-একটা শিওর দেখেছেন।

Sorry to burst your bubble, চুলের পোরসিটি এত সহজে বোঝা যায় না, গ্লাসের পানিতে একটা চুলের স্ট্র্যান্ড ডুবিয়ে তো নাই-ই! ⛔ প্রবলেম হচ্ছে, একটা ভুল ইনফরমেশন ভাইরাল হতে থাকলে এমনভাবে এক্সপ্লোড করে যে এই আইডিয়া পরে কারেকশন করা একদম ডিফিকাল্ট হয়ে যায়।

কেন এভাবে ডিটারমাইন করা যায় না, এটাও বোঝার ব্যাপার।

👉 গ্লাসে যখন আপনি একটা চুলের স্ট্র্যান্ড দিচ্ছেন, এটা ভাসবে না ডুববে তা ডিপেন্ড করে ওই পার্টিকুলার একটা চুলের ভর, ড্যামেজের পরিমাণ, কোয়ালিটি, চুলে কোন প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাই করা আছে কিনা সব কিছুর উপর। শুধু পোরসিটির উপর না।

👉 অনেকেই বলেন, “আমি তো চুল শ্যাম্পু করে এরপর ট্রাই করেছি!” শ্যাম্পুও যদি করে থাকেন, ওই শ্যাম্পুর ইনগ্রেডিয়েন্টও (যেমন- সিলিকন বা অয়েল) চুলের উপর থেকে যেতে পারে।

👉 এর পর আছে যে পানিতে দিচ্ছেন সেই পানির ঘনত্ব, তাপমাত্রা এবং other residual contents.

এবার আসি, গ্লাসে ডুবানো ওই এক পিস চুল আপনার বাকি সম্পূর্ণ চুলের মত এক্সাক্ট সেইম হবার সম্ভাবনা কতটুকু?

আমাদের চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত রেয়ারলি পোরসিটি সেইম থাকে। কী কী কারণে পোরসিটি ডিফারেন্ট হতে পারে সেগুলোর দিকেও একটু তাকাই।

💡 Root vs. Ends: সাধারণত চুলের গোড়ার দিকে পোরসিটি থাকে লো, আর যত নীচে আগার দিকে যায়, তত পোরসিটি বাড়ে। এক্সাক্টলি why অনেকের স্ক্যাল্পের দিকে অয়েলি লাগে, কিন্তু এন্ড খুব ড্রাই হয়ে যায়। যাঁদের চুল সিগনিফিক্যান্টলি লম্বা তাঁদের এই root vs end পোরসিটি ডিফারেন্ট হবার সম্ভাবনা তত বেশি। আর বাংলাদেশে কয়জন এডাল্ট মেয়ে চুল একদম ছোট রাখে?

💡 Age of Hair: মাত্র গজিয়েছে এমন নতুন চুলের পোরসিটি থাকে লো, কারণ এগুলো মোস্টলি undamaged. আর যে চুলগুলো লাইফ সাইকেলের শেষের দিকে চলে এসেছে, এগুলোর পোরসিটি থাকে হাই।

💡 Damage Level: কালার করা, ব্লিচ করা, কেমিক্যালি স্ট্রেইটেনড বা রিবন্ডিং করা- এই সকল ধরণের চুলের হাই পোরসিটি হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অন্যদিকে, অ্যাবসলিউটলি ভার্জিন হেয়ার লো পোরসিটি হবার পসিবিলিটি বেশি। ইভেন গ্লাসে যখন এক পিস চুল দিচ্ছেন, ওই এক স্ট্র্যান্ডেরই একপাশে ড্যামেজ থাকলে শুধুমাত্র ঐ অংশে হাই পোরসিটি হতে পারে!

💡 Hair Type: চুল যত স্ট্রেইট, এর লো পোরসিটি হবার পসিবিলিটি তত বেশি। যত কার্লি হবে, পোরসিটি তত বাড়তে থাকে। (অবশ্যই এটা কোনো ফিক্সড রুল না, ব্যাপারটা পসিবিলিটির। এমন না যে খুব কার্লি চুল লো পোরসিটি হতেই পারে না, but it is less likely).

এতক্ষণ যা বললাম যদি বোঝাতে পেরে থাকি, I hope you can also understand why you should not try to base your product requirement on porosity alone! 🤷‍♀️

চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত যদি পোরসিটি সেইম না থাকে, তাহলে এক পোরসিটি টাইপের প্রোডাক্ট দিয়ে পুরো চুল ভালো লাগবে কীভাবে? এবং আপনি যদি প্রপারলি ডিটারমাইনই করতে না পারেন আপনার চুলের কোন অংশ কেমন পোরসিটি, তাহলে প্রোডাক্ট সিলেকশনই করবেন কীভাবে? Also, চুল আজকে লো পোরসিটি আছে দেখে ৩ মাস পরেও তাই থাকবে এটাও ফিক্সড না। পোরসিটি চুলের পারমানেন্ট কোন স্টেট না, কন্ডিশন চেঞ্জের সাথে পোরসিটিও চেঞ্জ হবে।

Now coming to the point: বুঝব টা কীভাবে তাহলে? 🧐

Honestly, there is no easy one-way to figure it out. উপরে যা যা বললাম এগুলো থেকে আপনার পোরসিটি কী হতে পারে তার একটা আইডিয়া করতে পারেন। এর সাথে আরো কিছু প্র্যাক্টিক্যাল অবজারভেশন কম্বাইন করতে পারেন:

১️⃣ স্লাইড টেস্ট (কিউটিকল ড্যামেজ বোঝা): একটা চুলের স্ট্র্যান্ড ধরে নীচ থেকে উপর দিকে (আগা থেকে গোড়ার দিকে) আঙুল স্লাইড করে ফীল করার চেষ্টা করুন। কিউটিকল যাঁদের ক্লোজড, আঙুল ইজিলি গ্লাইড হবে, রাফনেস ফীল হবে না (লো পোরসিটিতে যেমন হয়)। যাঁদের কিউটিকল ওপেন বা ড্যামেজড, একটা দড়িতে হাত দিলে যেমন রাফনেস ফীল হয়, তেমন সিমিলার ফীলিং হবে (হাই পোরসিটিতে যেমন হয়)। তবে এটা বোঝা বেশিরভাগের জন্যই ডিফিকাল্ট, কারণ আসলেও কোনটা রাফ আর কোনটা স্মুথ এটা বোঝার মতো কম্পারিজন বা প্র্যাকটিস আমাদের নেই।

২️⃣ গোসলের সময় পানির রিঅ্যাকশন (Water Test): চুলে পানি স্প্রে করে দেখার মেথডটাও ইগনোর করুন। খুব ফাইন স্প্রে করলে ড্রপলেট হাই/লো যে কোন পোরসিটিতেই উপরে ভেসে থাকবে, don’t do it. এর চেয়ে বরং গোসলের সময় খেয়াল করুন-

💧 Low Porosity: চুল সহজে ভিজতে চায় না। পানি মনে হয় চুলের উপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে। চুল পুরোপুরি ভিজতে যেমন অনেক সময় লাগে, তেমনি ওয়াশ করার পর শুকাতেও জনম পার হয়ে যায়! [জেনারেল রুলঃ ৬ – ৮ ঘন্টা সময় লেগে যায় চুল শুকাতে। ]

💧 High Porosity: পানি দিলেই সাথে সাথে স্পঞ্জের মত শুষে নেয়। আবার চুল শুকাতেও সময় লাগে একদম কম। [জেনারেল রুলঃ ২ – ৪ ঘন্টা সময় লেগে যায় চুল শুকাতে। ]

৩️⃣ প্রোডাক্ট অ্যাবজরপশন (Product Test): ক্রিম, অয়েল বা লিভ-ইন কন্ডিশনার লাগানোর পর আপনার চুলের ফিল কেমন হয়?

🧴 Low Porosity: একটু হেভি প্রোডাক্ট দিলেই মনে হয় চুলের উপরে ভাসছে। চুল খুব জলদি weighed down বা স্টিকি ফীল হয়। লাইটওয়েট হাইড্রেশনে চুল ময়েশ্চারাইজড এবং বাউন্সি লাগে।

🧴 High Porosity: যা-ই দেন না কেন, মনে হয় চুল মরুভূমির গরম বালিতে দেয়া পানির মত খেয়ে ফেলছে। হেভি প্রোডাক্টও ইজিলি অ্যাবজর্ব করে নেয় এবং সবসময় মনে হয় চুল আরও ময়েশ্চার চাচ্ছে।

উপরের ইনফরমেশন গুলো জেনে যদি একটুও লাভ হয়ে থাকে, আশা করছি আর শুধুমাত্র গ্লাসের পানিতে চুল ডুবিয়ে পোরসিটি নিয়ে শিওর হয়ে যাবেন না। অনেকে শুধু পোরসিটি ভুল জানার কারণে mismatched products এর পিছে অনেকগুলো টাকাও গচ্চা দিচ্ছেন। সাথে এটা জানাও জরুরী যে আপনার চুলে কেমন প্রোডাক্ট স্যুট করবে এটা শুধু পোরসিটির উপর বেইজ করে নির্ধারণ করলে হবে না। তাই শুধু পোরসিটির পেছনে দৌড়ে লাভ নেই। আপনার চুলের বর্তমান ডিমান্ড কী (ড্রাই, ড্যামেজড, ফ্রিজি নাকি প্রোডাক্ট বিল্ড-আপ হচ্ছে) এমন অনেক কিছুর উপর ফোকাস করে প্রোডাক্ট সিলেক্ট করতে হয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *